আগের দুই দফায় অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নিয়মের পাশাপাশি বাসে ভাড়াও ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা এর চেয়েও বাড়িয়ে আদায় করেন।

সবকিছু খোলা রেখে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী কতটা যৌক্তিক

অফিস-আদালত, কলকারখানাসহ সবকিছু খোলা রেখে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের কথা বলা হয়েছে। যাতায়াতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সবকিছু খোলা রেখে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া ট্রেনের ওপর চাপ বাড়বে। লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং টেম্পো–জাতীয় ছোট যানে গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করা হবে। পাশাপাশি যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ পড়বে।

 

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত সোমবার রাতে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর একটি দফায় বলা হয়েছে, বাস, ট্রেন ও লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেকসংখ্যক যাত্রী বহন করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার সুনির্দিষ্ট তারিখসহ নির্দেশনা জারি করবে। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের অবশ্যই কোভিড টিকাধারী হিসেবে সনদ থাকতে হবে। ইতিমধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আজ বুধবার বনানীতে সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে। কবে থেকে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলবে এবং ভাড়া কত হবে—এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআইডব্লিউটিএ) লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে।

 

বিআরটিএ ও পরিবহন খাতের সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কিছু বাস্তব সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেমন এ দফায় কোনো অফিস-আদালত ও কলকারখানা বন্ধ না করেই গণপরিবহন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে। এর কারণর রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরে আসলে যাত্রী আগের মতোই থাকবে। কিন্তু গণপরিবহনে ধারণক্ষমতা অর্ধেক কমে যাবে। বর্তমানে অফিস শুরু এবং ছুটির সময় বাসগুলোয় ঠাসাঠাসি করে যাত্রী পরিবহন করা হয়। তাহলে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে এবং দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন না করলে বাকি যাত্রী কোথায় যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর নেই সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর।

সূত্র: https://www.prothomalo.com/