হ্যাম রেডিও

বাংলাদেশে এমেচার বা হ্যাম রেডিও একটি বিশুদ্ধ হাই টেক বৈজ্ঞানিক শখ। আপনিও হতে পারেন এই উত্তেজনাপূর্ণ দুনিয়াটির সদস্য।

এমেচার বা হ্যাম রেডিও কি?

What is Amateur Radio?

অপেশাদার রেডিও কি?

World-Amateur-Radio-Day-2017-S21H

World-Amateur-Radio-Day-2017-S21H (হ্যাম রেডিও অপারেটর)

এমেচার বা হ্যাম রেডিও (Ham Radio)হল একটি খুবই উচ্চতর শখ(Hobby ) ।আমি বলি নিজের খেয়ে বোনের মহিষ তাড়ানোর মতো শখ হোল এমেচার বা হ্যাম রেডিও অপারেটর । আমার এই কোথায় কষ্ট পাবেন না আমি আপনাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বলছি না।পৃথিবীতে যত প্রকার শখ(Hobby ) আছে তার মধ্য হ্যাম রেডিও রয়েছে অনেক উপরে। বলতে পারেন হ্যাম রেডিও হলো এক নম্বরে। তবে ব্যাপার টা হবে এই রকম। আমি অনেক মানুষ দেখেছি যারা শখের করে মোবাইল ফোন কিনে যার আক্তার দাম বাংলাদেশী টাকায় ৬০,০০০ বা তার বেশি হবে আবার অনেকে শখ করে ডাকটিকেট অথবা মুদ্রা সংগ্রহ করে আবার অনেকে বন্ধুত্ব করতে ভালো বাসে। এগুলি বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন প্রকের শখ থাকে। তেমনি এক শখ এমেচার বা হ্যাম রেডিও।এমেচার বা হ্যাম রেডিও (Ham Radio)হল একটি খুবই উচ্চতর শখ(Hobby ) ।আমি বলি নিজের খেয়ে বোনের মহিষ তাড়ানোর মতো শখ। আমার এই কোথায় কষ্ট পাবেন না আমি আপনাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বলছি না। তবে ব্যাপার টা হবে এই রকম। আমি অনেক মানুষ দেখেছি যারা শখের করে মোবাইল ফোন কিনে যার আক্তার দাম বাংলাদেশী টাকায় ৬০,০০০ বা তার বেশি হবে আবার অনেকে শখ করে ডাকটিকেট অথবা মুদ্রা সংগ্রহ করে আবার অনেকে বন্ধুত্ব করতে ভালো বাসে। এগুলি বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন প্রকের শখ থাকে। তেমনি এক শখ এমেচার বা হ্যাম রেডিও।

এমেচার বা হ্যাম রেডিও দিয়ে কি করা হয় বা করা যাই ?

জরুরী এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি

জরুরী এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি

এমেচার বা হ্যাম রেডিও(Ham Radio) দিয়ে যে কাজ করা যাই তা হলো রেডিও কমুনিকেশন ,ডেটা ট্রান্সফরত ,গুপ্ত রেডিও স্টেশন খোজ , রেডিও কনফারেন্স করা ,

উপগ্রহ যোগাযোগ বা এস্ট্রোনট কমুনিকেশন ইত্যাদি।

আবার একটা ঘটনা বলি।

ঘটনাটা ছিল এই রকম , ভারতের গুজরাটের ভুজ শহরের কুয়াশা জড়ানো শীতের সকাল। রাতের নিঝুমতা কাটিয়ে সবে ভোরের আভায় জেগে উঠছে শহরটি। আচমকা প্রচণ্ড এক ঝাঁকুনিতে নড়ে উঠল সবকিছু। ধসে পড়ল ভারতের গুজরাটের ভুজ শহর সবকিছু ।
চোখের পলকে চার লাখ ঘরবাড়ি নিপাতিত হলো মাটিতে। প্রাণ হারাল প্রায় ২০ হাজার মানুষ। আহত হলো এক লাখ ৬৭ হাজার মানুষ । যোগাযোগব্যবস্থা বলতে আর কিছুই রইল না। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারির।
এ ভয়ংকর দুর্যোগে বিপন্ন মানবতার সাহায্যে এগিয়ে এলেন কিছু মানুষ। তাঁদের হাতে ১০০ ওয়াটের একটি ট্রান্সমিটার। গাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারি আর কিছু তার। ঘটনাস্থলেই পাওয়া গেল লম্বা একটি বাঁশ। সেটি ব্যবহার করা হলো টাওয়ার হিসেবে। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চালু হয়ে গেল বেতারকেন্দ্র। এ কেন্দ্রের সঙ্গে একে একে যুক্ত হলেন ১৫০ ব্যক্তি। হাতে একটি করে ওয়াকিটকি। তাঁরা ছড়িয়ে পড়লেন শহরের সর্বত্র। এরপর পৃথিবী জানল ভারতের গুজরাটের ভুজের মর্মান্তিক দুর্যোগের সংবাদ।VU2RBI (হ্যাম রেডিও অপারেটর)

VU2RBI (হ্যাম রেডিও অপারেটর)

সেদিন যাঁরা এগিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা সবাই ছিলেন শৌখিন রেডিও অপারেটর বা হ্যাম রেডিও অপারেটর। দুনিয়াজুড়ে তাঁরা পরিচিত ‘হ্যাম’ নামে। শুধু ভারতের কথা কেন, আমাদের দেশে ১৯৯১ সালের সেই ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কক্সবাজারে ছিলেন একদল হ্যাম। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কক্সবাজারের পুরো যোগাযোগব্যবস্থা সেদিন অকেজো হয়ে পড়েছিল। এগিয়ে এসেছিলেন একজন জাপানি শৌখিন রেডিও অপারেটর। তাঁর বেতার থেকে সেই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে।
দুর্যোগে যখন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়, যোগাযোগব্যবস্থা বলতে আর কিছুই থাকে না, ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন হ্যাম। অ্যামেচার রেডিও বা শৌখিন বেতার যোগাযোগব্যবস্থায় একজন ব্যবহারকারী নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ বেতার গ্রাহক ও প্রেরকযন্ত্রের অধিকারী। এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বেতারতরঙ্গ ব্যবহার করে নিজের শহর, দেশ, এমনকি পৃথিবীর যেকোনো দেশের ওই ধরনের বেতারযন্ত্র ব্যবহারকারীর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা যায়।

কি পরিমান হ্যাম রেডিও(Ham Radio) অপারেটর আছে এই পৃথিবীতে ?

এমেচার রেডিও বা হ্যাম রেডিও(Ham Radio) হচ্ছে একটি বশ্বিব্যাপি রেডিও কমিউনিটি যারা রেডিওর মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যাক্তি নিজেদের মাঝে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেনে । ২০০৪ সালরে জরপি অনুযায়ী আমেরিকায় ৭ লক্ষ , জাপানে ৬ লক্ষ , দক্ষিণ কোরয়িায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার , থাইল্যান্ডে ১ লক্ষ ৪০ হাজার , কানাডায় ৫৭ হাজার , র্জামানতি ৭০ হাজার , ইংল্যান্ডে ৬০ হাজার , সুইডেনে ১১ হাজার , নরওয়েতে ৫ হাজার এবং আমাদরে র্পাশ্বর্বতী দশে ভারতে ১৬ হাজাররে ও বেশি হ্যাম এই বষিয়ে যথষ্টে এগিয়ে আছে । তারা স্বেচ্ছা শ্রমরে ভত্তিতিতে কাজ করে।

আর কি কি করা যাই ?

এমেচার রেডিও(Amateur radio) কিন্তু শুধু কথা বলার জন্য নয় , এই রেডিও ব্যবহার করে আপনি এমেচার স্যাটালাইট , এমেচার তেলিভিশন স্লো-স্ক্যান টিভি, ফাস্ট-স্ক্যান টিভি , ডাটা ট্রান্সমশিনরে বিভিন্ন মোডরে ব্যবহার , র্মোস কোড ও রেডিওকে মডমে হিসেবে ব্যবহার করার মতো আরো অনকে মজার মজার কাজ করতে পারবনে । দুর্যোগের সময়ে এমেচার রেডিও খুব কাজে লাগে কারণ তখন ফোন নেটওয়ার্ক কাজ করে না। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে , এসব কাজে আমাদরে সাহায্য করার জন্য সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ হ্যাম বসে আছে , যাদের শখই হলো বিনা মূল্যে অন্যান্য হ্যামদেরকে সাহায্য করা এবং এমেচার রেডিও(Amateur radio) নিয়ে গবষেণা করা ।

আসল কি ভাবে বা আর উৎপত্তি হলো কি করে ?

বিশ্বের প্রথম এমেচার রেডিও ষ্টেশন পরচিালনা করছেলিনে যে তিনজন তারা ছিলেন Albert S Hyman , Bob Almy এবং Poogie Murray। তারা তাদরে ষ্টেশন এর নামকরন করছেলিনে “Hyman-Almy-Murray” বা Hyalmu ।কিন্তু ১৯০১ সালে Hyalmo রেডিও ষ্টেশন এবং মক্সেকিান জাহাজ Hyalmo এর প্রেরিত বেতার সংকতে সনাক্তকরনে গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তারা তাদরে তিন জনরে নামরে প্রথম অক্ষরগুলো ব্যাবহার করে তাদরে ষ্টশেনরে নামকরন করনে “HAM” বা হ্যাম ।তাদরে সেদিনের উদ্যোগরে ফলে বশ্বিব্যাপী এই সার্ভিসটির নামকরন করা হয় “HAM” এবং আশা করা যায় শেষ র্পযন্ত এটি “HAM” নামইে বিদ্যমান থাকবে ।

এমেচার বা হ্যাম রেডিও অপারেটর হতে হলে কি করতে হবে ?

আপনি যদি এমেচার বা হ্যাম রেডিও(Amateur radio) অপারেটর হতে চান তাহলে প্রথমেই লাগবে আপনার ইচ্ছা শক্তি ,অরাজনৈতিক মনোভাব ,সাহায্য করার মনোভাব আর পর প্রয়োজন BTRC অনুমোদন যা আপনাকে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে পেতে হবে এরপর আপনি আপনার কল সাইন এর জন্য আবেদন করবেন , আপনি কল সাইন হলে আপনি একজন হ্যাম রেডিও অপারেটর। আপনার কল সাইন হবে S২১**** এই রকম যেমন আমার কল সাইন S২১H । S২১ বাংলাদেশ এর কোড , ফোন যেমন +৮৮ তেমনি। আপনার শুভ কামনায় আমাদের এমেচার বা হ্যাম রেডিও অপারেটর জগতে স্বাগতম জানানোর অপেক্ষায় S21H ।

হ্যাম রেডিও বিষয়ে আরো জানতে এই লিংকে

https://bn.wikipedia.org/s/b0m3

বিটিআরসি-র ওয়েবে http://www.btrc.gov.bd

নবম-দশম শ্রেণীর পাঠ্য বাংলা বই সমাচার

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ডকে আরো শক্তিশালী করতে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাধনা করে আমরা যে শিক্ষানীতি পেলাম, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সেটা কতটুকু কার্যকর ও সফল হয়েছে সে বিষয়ে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এ লেখার অবতারণা। বর্তমান সরকার শিক্ষা বিষয়ে অনেক দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছে যা সকলেরই মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যেমন – নতুন পদ্ধতি (সৃজনশীল) প্রণয়ন, পাঠ্যসূচীতে পরিবর্তন, বিনামূল্যে বই বিতরণ প্রভৃতি। তবে একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে বলতে চাই, সরকার যে উদ্দেশ্যে নতুন পদ্ধতি (সৃজনশীল) প্রণয়ন করেছে ও পাঠ্যসূচীতে পরিবর্তন এনেছে তা সর্বাংশে সফল হয়নি। এ দু’টি বিষয়কে কার্যকর করার জন্য যে উপকরণ প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের কাছে তা যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি। যেমন, নবম-দশম শ্রেণীর ‘মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য’ বইটিতে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে যে গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও নাটক পাঠ্য করা হয়েছে তা আমার বিবেচনায় যুগোপযোগী নয়।বইটির লেখক ও সংকলক এবং সম্পাদকমণ্ডলী আমার শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিবর্গ । আমি উনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ও নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেই বলতে চাই, বইটির বিষয়বিন্যাস শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। বিনয়ের সঙ্গেই আমি এই মতের পক্ষে কিছু যুক্তি নিচে উপস্থাপন করছি।১. শিক্ষার্থীদের মূল শক্তি তাদের পাঠ্যবই, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের পাঠ্যপুস্তকে বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। একজন শিক্ষার্থিী নবম-দশম শ্রেনীতে যা শিখছে একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণীতে অনেকাংশে তার বিপরীত অথবা তার থেকে অনেক কঠিন বিষয় তাকে পড়তে হচ্ছে যা তার পক্ষে অনুধাবন করা দুরুহ হয়ে পড়ে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘কপোতাক্ষ নদ’ পড়ে তার পক্ষে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ আত্মস্থ করা খুবই কঠিন।২. বিষয়বিন্যাসে রয়েছে একঘেঁয়ে ও অদূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন। স্বাধীনতা বিষয়ে গল্প ও কবিতার মধ্যে ‘স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ এবং ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতা দু’টি রাখা হয়েছে। আমার মতে এ দু’টি কবিতার পরিবর্তে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ আর ‘আমার পরিচয়’ কবিতা রাখা যেত অথবা নির্মলেন্দু গুণের ও কামাল চৌধুরীর স্বাধীনতা বিষয়ক অন্য কবিতা দেওয়া যেতে পারত।আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সঙ্গে এটি বলছি কারণ আমি জানি তাঁদের এর থেকে অনেক ভাল স্বধীনতা বিষয়ক কবিতা রয়েছে।পাঠ্যপুস্তকে বিষয় নির্ধারণ করা হয় শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত শক্তির জাগরণ ও তার সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে যা পরবর্তীকালে সামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু আমাদের পাঠ্যক্রমে আগের কিছু গল্প-কবিতার পরিবর্তে এমন কিছু গল্প-কবিতা নির্বাচন করা হয়েছে যেগুলো আগেরগুলোর সমমানের বা তাদের চেয়ে ভাল নয়। উদাহরণ, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘দুর্মর’ কবিতা রাখা হলো না। আবার ‘পালামৌ’ গল্প থেকে আমার বিবেচনায় ‘পারী’ শিক্ষার্থীদের বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করত। ‘মহেশ’ গল্পের যে সামাজিক ও শিল্পমূল্য রয়েছে ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের সেই সামাজিক ও শিল্পমূল্য আছে কি?বাংলা ছোট গল্পের সার্থক রূপকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’র পরিবর্তে ‘দেনাপাওনা’ নির্বাচন করা হয়েছে হয়ত একাদশ শ্রেণীর বিবেচনায় যেখানে ‘হৈমন্তী’র পরিবর্তে ‘অপরিচিতা’ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ‘হৈমন্তী’ ও ‘দেনাপাওনা’ একই বিষয়ের হলেও ‘দেনাপাওনা’ ও ‘অপরিচিতা’ একই বিষয়ের নয়, আবার ‘ছুটি’ গল্পে শিক্ষার্থীরা যে আকর্ষণ পেত ‘দেনাপাওনা’তে তারা তা পাবে না। তাহলে আমাদের নির্বাচকমণ্ডলী কি বাংলা ছোট গল্পের সার্থক রূপকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছুটি’র পরিবর্তে অন্য কোনো গল্প পেলেন না!এবার ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের বিষয়ে আসি। এর নাম থেকেই বুঝি এটি একটি তত্ত্বমূলক প্রবন্ধ যা আমার বিবেচনায় নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর জন্য খুব জরুরী নয়। তারপরও এটা থাকলে শিক্ষার্থীরা সাহিত্যের আঙ্গিক সম্পর্কে জানতে পারবে, কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এখানে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও নাটক, কোনোটি সম্পর্কেই সুন্দর ও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। তাহলে আমার প্রশ্ন এরকম অস্পষ্ট বিষয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার কী প্রয়োজন? উদাহরণ হিসাবে আমি কবিতার ও প্রবন্ধের বিষয়টি উপস্থাপন করতে চাই। প্রথমে কবিতার সংজ্ঞায় বলা হলো: ‘‘ছন্দোবদ্ধ ভাষায়, অর্থাৎ পদ্যে যা লিখিত হয় তাকেই আমরা ‘কবিতা’ বলি। কবিতার প্রধান দুটি রূপভেদ হলো – মহাকাব্য ও গীতিকবিতা।” এরপর মহাকাব্য ও গীতিকবিতা নিয়ে সামান্য আলোচনা হয়েছে। এখানে একজন পাঠক হিসেবে আমার কৌতূহল, পদ্য ও কবিতা কি একই? আধুনিককালের শুরু থেকেই এ বিষয়ে নানা মতভেদ চলে আসছে এবং শে‌ষ পর্যন্ত পদ্য ও কবিতার প্রভেদ ও সম্পর্ক বিষয়ে সুচিন্তিত মত প্রতিষ্ঠিতও হয়েছে। যা হোক, এত জটিল বিষয় নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর জন্য খুব জরুরী নয়। আমার আরো একটি ছোট প্রশ্ন, এ পাঠ্যবইটির শ্রদ্ধেয় লেখক ও সংকলক এবং শ্রদ্ধেয় সম্পাদকমণ্ডলীর কাছে – যদি কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের কাছে জানতে চায় পাঠ্যপুস্তকের কোনটি মহাকাব্য আর কোনটি বা গীতিকবিতা, তখন শিক্ষক কী উত্তর দেবেন? হয়তো জিজ্ঞাসু শিক্ষার্থীকে তিনি নিজের মতো করে একটা উত্তর দেবেন কিন্তু সেই উত্তরটা সঠিকভাবে দেওয়ার যথেষ্ট প্রস্তুতি তাঁর আছে কিনা তা ভাবার বিষয়। আবার বইটিতে আধুনিক কবিতাও আছে কিন্তু আধুনিক কবিতা কী সে বিষয়ে প্রবন্ধটিতে কোনো আলোচনা নেই।লেখা আর বাড়াতে চাই না, শুধু একটি অনুরোধ করে শেষ করব – যাঁরা আমার লেখাটি পড়বেন তাঁরা নবম-দশম শ্রেণীর ‘মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য’ বইটি পড়ে তাঁদের সুচিন্তিত মত দেবেন।